ডিজিটাল মার্কেটিং কি? ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে করতে হয়
ডিজিটাল মার্কেটিং হলো ইন্টারনেট এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে প্রোডাক্ট, সেবা, ব্র্যান্ড বা প্রতিষ্ঠানের প্রচার এবং প্রমোশনের ডিজিটাল প্রক্রিয়া। ডিজিটাল মার্কেটিং এ প্রোডাক্ট বা সেবা প্রচার এবং প্রস্তুত করার জন্য বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার হয়, যেমন ওয়েবসাইট, সোশ্যাল মিডিয়া, সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন (SEO), পেইড অ্যাডভার্টাইজিং, কনটেন্ট মার্কেটিং, ভিডিও মার্কেটিং, ইমেইল মার্কেটিং ইত্যাদি। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের উদ্দেশ্য হল আপনার লক্ষ্যগুলির সাথে মিলিত ডিজিটাল প্রমোশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করা এবং তাদেরকে আপনার প্রোডাক্ট বা সেবা প্রদান করার জন্য উৎসাহিত করা।
ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে বাংলা টেক লিমিটেড এর এই আয়োজনে আপনাকে স্বাগতম জানাচ্ছি। আজকের টপিকে আমরা জেনে নেব ডিজিটাল মার্কেটিং কি, ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে করতে হয়, ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের গুরুত্ব, ডিজিটাল মার্কেটিং কত প্রকার ও কি কি, ডিজিটাল মার্কেটিং করতে কতদিন সময় লাগে ইত্যাদি বিষয়গুলোর বিস্তারিত সঠিক ধারণা। আশাকরি আজকের ব্লগটির মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে আপনি সুস্পষ্ট ধারণা পাবেন। চলুন শুরু করা যাক।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্ব
বর্তমান সময়ে একটি সফল ব্যবসায় পরিচালনা করার জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্ব অপরিসীম। ব্যবসায়ের দ্রুত সাফল্য ও প্রসারের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং অন্যতম ভূমিকা পালন করে থাকে। ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান তার গ্রাহকদের সঠিক চাহিদা অনুসন্ধান করে তাদের সঙ্গে সঠিক ভাবে সংযোগের স্থাপন করতে পারেন। এ ছারাও ডিজিটাল মার্কেটিং আরও যে সকল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে তা হলঃ
- গ্রাহকের অনুসন্ধান ও আবিষ্কার
- গ্রাহক সংযোগ ও এঙ্গেজমেন্ট
- ব্র্যান্ড ইমেজ তৈরি
- লোকাল এবং গ্লোবাল ব্যবসা সম্প্রসারণ
- স্থায়ী আকর্ষণ
- সহজ পরিমাণ নির্ধারণ
- লো বাজেটে প্রচার
- প্রতিষ্ঠানের উন্নতি এবং বৃদ্ধি
ইত্যাদি আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটিং ব্যবসায়ের দ্রুত প্রসার ও সাফল্য বয়ে আনে।
বি 2 বি বনাম বি 2 সি ডিজিটাল মার্কেটিং
“বি 2 বি” (B2B) এবং “বি 2 সি” (B2C) ডিজিটাল মার্কেটিং এর অন্যতম প্রধান দুটি কনসেপ্ট যা দুটি প্রধান মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য প্রকাশ করে। এই দুটি কনসেপ্ট ব্যবসায়িক প্রয়োজনিয়তা এবং উদ্দেশ্যে ডিজিটাল মার্কেটিং সংক্রান্ত দুটি প্রধান সেটআপ বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। চলুন এ ব্যাপারে আরও একটু স্পষ্ট ধারণা নেয়া যাক।
B2B (Business to Business) ডিজিটাল মার্কেটিং
B2B (Business to Business) ডিজিটাল মার্কেটিং এ, একটি প্রতিষ্ঠান অন্যটি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে এবং প্রয়োজনীয় প্রোডাক্ট বা সেবা বিক্রয় করতে চেষ্টা করে। এ ধরনের ডিজিটাল মার্কেটিং কার্যক্রম সাধারণত দুইটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
B2C (Business to Consumer) ডিজিটাল মার্কেটিং
B2C (Business to Consumer) ডিজিটাল মার্কেটিং এ প্রতিষ্ঠান তাদের প্রোডাক্ট বা সেবা গ্রাহকদের সাথে সরাসরি সংযোগ করে এবং তাদের সাথে মার্কেটিং প্রমোশন করে। ই প্রকারের মার্কেটিং এ প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড ইমেজ তৈরি করা, গ্রাহকদের আকর্ষণ জনিত কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং প্রোডাক্ট বা সেবা বিক্রয় বাড়ানো কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সংক্ষিপ্তভাবে বলতে গেলে, “বি 2 বি” ডিজিটাল মার্কেটিং ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সাথে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ এবং প্রোডাক্ট বা সেবা বিক্রয় সম্পর্কিত কার্যক্রম কে বোঝায়, আবার “বি 2 সি” ডিজিটাল মার্কেটিং গ্রাহকদের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং গ্রাহকদের সঠিক সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে মার্কেটিং প্রমোশন করা।
ডিজিটাল মার্কেটিং কত প্রকার ও কি কি – (Types of digital marketing)
ডিজিটাল মার্কেটিং বিভিন্ন প্রকারের উপায়ে বিভক্ত করা যায়, যার মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠান সরাসরি তার কাঙ্খিত গ্রাহকদের সাথে সংযোগ স্থাপন করেন এবং তাদের নির্দিষ্ট সেবা প্রদানে উৎসাহিত করে থাকেন। ডিজিটাল মার্কেটিং বিভিন্ন প্রকারে বিভক্ত হতে পারে, তার মধ্যে প্রধান ও সময় উপযোগী প্রকারগুলো হলঃ
- সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (Social Media Marketing)
- সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন (SEO)
- পেইড অ্যাডভার্টাইজিং (Paid Advertising)
- অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing)
- ইমেইল মার্কেটিং (Email Marketing)
- ভিডিও মার্কেটিং (Video Marketing)
- মোবাইল মার্কেটিং (Mobile Marketing)
- ব্লগ মার্কেটিং (Blog Marketing)
- ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং (Influencer Marketing)
- কন্টেন্ট মার্কেটিং (Content Marketing)
- পোডকাস্ট মার্কেটিং (Podcast Marketing)
- ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং মার্কেটিং (Instant Messaging Marketing)
উপরোক্ত ডিজিটাল মার্কেটিং এর বিভিন্ন রকমের প্রকার গুলোর মাধ্যমে একটি ব্যবসায়ের প্রতিষ্ঠান অতি দ্রুত তার কাঙ্খিত গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেন এবং তার পণ্য সেবা সম্পর্কে গ্রাহকে অবগত করতে পারেন। উপরোক্ত প্রকার গুলোর মাধ্যমে কিভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং এর কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় তার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেব।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (Social Media Marketing)
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (SMM) হলো একটি ডিজিটাল মার্কেটিং প্রক্রিয়া, যাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে প্রোডাক্ট, সেবা বা ব্র্যান্ডের প্রচার এবং প্রমোশন করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এ বিভিন্ন সামাজিক নেটওয়ার্ক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয়, যেমন ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, লিঙ্কডইন, টিকটক, ইউটিউব, পিনটারেস্ট, স্ন্যাপচ্যাট ইত্যাদি।সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং প্রক্রিয়াটি গ্রাহকদের সাথে সংযোগ স্থাপন করার এবং তাদের সাথে মৌলিক সম্পর্ক তৈরি করার উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের প্রোডাক্ট বা সেবার বৈশিষ্ট্য, উপলব্ধি, ব্র্যান্ড ইমেজ এবং কাস্টমার কর্পোরেট ইমেজ প্রমোট করা হয়। সাথে সাথে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয় যাতে প্রতিষ্ঠান তাদের মার্কেটিং ক্যাম্পেইন এর মাধ্যমে পণ্যের মান উন্নয়ন ও গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী নতুন পণ্য সরবরাহের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।
সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন (SEO)
সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন (SEO) মার্কেটিং এর মাধ্যমে ওয়েবসাইট বা অনলাইন উপস্থিতির জন্য সার্চ ইঞ্জিনে প্রাথমিক অবস্থান নিরধারনের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। SEO মার্কেটিং এর মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারীর জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি গ্রহন করা হয় যেমন ওয়েবসাইটের ডিজাইন, প্রয়োজনীয় কিওয়ার্ড তালিকায় নির্ধারণ, পণ্যের সঠিক বিবরণ ইত্যাদি।
SEO মার্কেটিং এর উদ্দেশ্য হলো অনলাইন অনুসন্ধান সাধন করে ব্যবহারকারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করার মাধ্যমে উপস্থিতি এবং বিশ্বাসী স্থাপন করা। SEO মার্কেটিং এর মাধ্যমে ওয়েবসাইটগুলি সার্চ ইঞ্জিনে উপস্থাপন করে এবং নিজেদের লক্ষ্য নিয়ে ব্যবহারকারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করে যাতে তারা তাদের প্রয়োজনীয় সন্ধানে সহায়ক হতে পারে।
পেইড অ্যাডভার্টাইজিং (Paid Advertising)
পেইড অ্যাডভার্টাইজিং (Paid Advertising) হলো এমন একটি ডিজিটাল মার্কেটিং প্রক্রিয়া, যেখানে প্রতিষ্ঠান অথবা ব্যক্তি টাকা পরিশোধ করে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের মাধ্যমে তার পণ্যের প্রমোশন করে থাকেন।পেইড অ্যাডভার্টাইজিং একাধিক প্লাটফর্মে প্রদর্শিত হতে পারে, যেমন সার্চ ইঞ্জিন পেইড প্রমোশন (যেমন Google Ads), সোশ্যাল মিডিয়া পেইড প্রমোশন (যেমন ফেসবুক অ্যাডস, ইনস্টাগ্রাম অ্যাডস), ভিডিও প্ল্যাটফর্ম পেইড প্রমোশন (যেমন YouTube Ads), ডিসপ্লে নেটওয়ার্ক পেইড প্রমোশন (যেমন ব্যানার বিজ্ঞাপন) ইত্যাদি।
পেইড অ্যাডভার্টাইজিং প্রক্রিয়াটির মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠান তার কাঙ্খিত গ্রাহকের কাছে নির্দিষ্ট পণ্য পৌঁছে দেবার মাধ্যমে ব্যবসায়িক লক্ষ্য পূরণ করতে পারেন
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing)
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো একটি ব্যবসায়িক মডেল যেখানে একটি ব্যক্তি (অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার) অন্যটির (প্রতিষ্ঠান বা ব্র্যান্ড) প্রোডাক্ট বা সেবা নিয়ে প্রচার করে এবং তাদের প্রদান করা লিঙ্ক বা প্রযুক্তির মাধ্যমে একজন গ্রাহককে প্রোডাক্ট বা সেবা বিক্রি করার জন্য উৎসাহিত করে। যখন একজন ব্যবহারকারী উক্ত লিংক এর মাধ্যমে পণ্য ক্রয় করেন তখন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার নির্দিষ্ট সেই প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্যটি বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণে কমিশন পান। এই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে একটি কোম্পানি যেমন তাদের পণ্য খুব সহজেই গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন তেমনি একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার পণ্যটি বিক্রির মাধ্যমে নিজেও লাভবান হন।
ইমেইল মার্কেটিং (Email Marketing)
ইমেইল মার্কেটিং হলো একটি ডিজিটাল মার্কেটিং প্রক্রিয়া যেখানে একটি প্রতিষ্ঠান তাদের লক্ষ্য গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য ইমেইল ব্যবহার করে। ইমেইল মার্কেটিং এ, প্রতিষ্ঠান বা মার্কেটার সাধারণভাবে সাবস্ক্রাইবারদের একটি ইমেইল তালিকা তৈরি করে যাতে তারা নিজের নতুন প্রোডাক্ট, সেবা, বিশেষ অফার, নিউজলেটার ইত্যাদি সম্পর্কিত তথ্য গ্রাহকদের পাঠাতে সক্ষম হয়। তারপর তারা নির্দিষ্ট সময়ে ইমেইল প্রেরণ করে যাতে গ্রাহকরা তাদের ইনবক্সে তাদের পছন্দের পণ্যগুলোর নির্দিষ্ট তথ্য পেয়ে যান।
ভিডিও মার্কেটিং (Video Marketing)
ভিডিও মার্কেটিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠান, বা ব্যক্তি তাদের লক্ষ্য গ্রাহকদের সাথে সংযোগ স্থাপন করার জন্য ভিডিও কন্টেন্ট ব্যবহার করে থাকেন। ভিডিও মার্কেটিং এ, প্রতিষ্ঠান বা ব্র্যান্ড নিজেদের প্রোডাক্ট বা সেবা সাম্প্রতিকতর বা আকর্ষণীয় উপায়ে প্রদর্শন করার জন্য ভিডিও তৈরি করে এবং এই ভিডিওগুলি ওয়েবসাইট, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, ইমেল মার্কেটিং, অ্যাপ্লিকেশন এবং অন্যান্য মাধ্যমে প্রচার করে।
মোবাইল মার্কেটিং (Mobile Marketing)
মোবাইল মার্কেটিং এ একটি প্রতিষ্ঠান মোবাইল ডিভাইসে (যেমন স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট) গ্রাহকদের সাথে সংযোগ স্থাপন করার উপায়ে ব্যবহার করে। এটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, মোবাইল ওয়েবসাইট, স্ম্স মার্কেটিং, ইন-আপ নোটিফিকেশন, মোবাইল সোশ্যাল মিডিয়া এবং অন্যান্য মোবাইল প্ল্যাটফর্মে প্রদর্শিত হতে পারে।
ব্লগ মার্কেটিং (Blog Marketing)
ব্লগ মার্কেটিং হলো একটি ডিজিটাল মার্কেটিং প্রক্রিয়া যেখানে একটি প্রতিষ্ঠান বা ব্র্যান্ড তাদের গ্রাহকদের সাথে সংযোগ স্থাপন করার উপায়ে ব্লগ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে। ব্লগ একটি ওয়েবসাইট বা সাব-সেকশন যেখানে নিবন্ধ, লেখা, পোস্ট, গবেষণা, সম্মানিত মতামত, ইনফোগ্রাফিক্স, ছবি ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং (Influencer Marketing)
ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং এর মাধ্যমে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রসিদ্ধ এবং একে অপরের প্রভাবান ব্যক্তিবর্গের (ইনফ্লুয়েন্সার) সাথে সহযোগিতা করে যাতে তাদের প্রোডাক্ট, সেবা, বা সামগ্রী বিপর্যস্ত প্রচার প্রাপ্ত করতে পারে।
কন্টেন্ট মার্কেটিং (Content Marketing)
কন্টেন্ট মার্কেটিং হলো একটি ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া যা উপযুক্ত, মূল্যবান, এবং আকর্ষণীয় তথ্য বা সংবাদের উপর ভিত্তি করে একটি দর্শক বা শ্রোতা দল আকর্ষণ করার জন্য বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে। এটি প্রায়শই ওয়েবসাইট, সোশ্যাল মিডিয়া, ব্লগ, পোডকাস্ট, ভিডিও, ইমেল মার্কেটিং, ইউটিলিটি গাইড, ইনফোগ্রাফিক্স ইত্যাদির মাধ্যমে প্রদর্শিত হতে পারে।
পোডকাস্ট মার্কেটিং (Podcast Marketing)
অডিও প্রকাশনা (পোডকাস্ট) ব্যবহার করে একটি মাধ্যমে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান তাদের গ্রাহকদের সাথে সংযোগ স্থাপন করার চেষ্টা করেন। পোডকাস্ট মার্কেটিং এ, অডিও সংক্ষিপ্ত প্রকাশনার মাধ্যমে ব্র্যান্ড পরিচিতি বা সেবা প্রচার করা হয়ে থাকে।
ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং মার্কেটিং (Instant Messaging Marketing)
এই মার্কেটিং সাধারণত সামাজিক মিডিয়া চ্যাট অ্যাপ্লিকেশন গুলো যেখানে ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা যায়, যেমন WhatsApp, Facebook Messenger, WeChat, Viber, Telegram, Slack ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের পণ্যের প্রচার করে থাকেন। এ মার্কেটিং এ প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের গ্রাহকদের সাথে সরাসরি চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে তাদের পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে প্রোডাক্ট বা সেবার প্রচার করতে পারে।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর সুবিধা গুলো কি কি
ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের দ্রুত প্রসার ঘটে থাকে। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান তাদের টার্গেটেড গ্রাহকদের দ্রুত খুঁজে পেতে পারেন এবং গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্যের মান উন্নয়ন সহ নতুন পণ্য তৈরির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন সাধন করতে পারেন। কিছু উল্লিখযোগ্য সুবিধাগুলি হলঃ
- দ্রুত প্রসারণ ও প্রচার
- টার্গেট অডিয়েন্স নির্ধারণ
- পূর্বাভাস এবং ব্র্যান্ড স্থাপন
- লক্ষ্যগ্রাহকের ব্যক্তিগত সংযোগ
- গ্রাহকদের প্রভাবিত করার সুযোগ
- ব্যবসায়িক গতি এবং উন্নতি
- পর্যালোচনা এবং পরিস্থিতি বিশ্লেষণ
- ফলাফল মূল্যায়ন এবং পূর্বানুমান
ডিজিটাল মার্কেটিং প্রযুক্তির উপযুক্ত ব্যবহারের ফলে ব্যবসায়িক উদ্যোগ সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয় এবং লক্ষ্যগ্রাহকদের সাথে দ্রুত সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করে।
শেষ কথাঃ ডিজিটাল মার্কেটিং একটি শক্তিশালী মার্কেটিং প্রক্রিয়া যা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান তার গ্রাহকের সাথে সংযোগ স্থাপন এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রভাব বাড়াতে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং, ডিজিটাল মার্কেটিং ব্যবসায় সম্পর্কে বৃহত্তর জ্ঞান এবং ব্যবসায়িক উদ্যোগের সাথে সাথে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে তার নিজের এবং ব্যবসার প্রভাব বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
প্রশ্ন উত্তর FAQ
প্রশ্নঃ ডিজিটাল মার্কেটিং কি কিভাবে করতে হয়?
উত্তরঃ ডিজিটাল মার্কেটিং হল এমন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যেখানে একটি প্রতিষ্ঠান তার পণ্য সেবার ডিজিটাল প্রচারণা চালান এবং একজন ডিজিটাল মার্কেটের ডিজিটাল মার্কেটিং এর বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে একটি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করেন।
প্রশ্নঃ ডিজিটাল মার্কেটিং করার জন্য কি কি প্রয়োজন?
উত্তরঃ যেহেতু ডিজিটাল মার্কেটিং প্রধানত একটি অনলাইন ইলেকট্রনিক মার্কেটিং সিস্টেম তাই এটার জন্য আপনার একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস ইন্টারনেট কানেকশনের প্রয়োজন হবে।
প্রশ্নঃ ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে কতদিন সময় লাগে?
উত্তরঃ কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই, তবে সঠিক গাইডলাইন অনুসরণ করলে ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে টপ লেভেলের ডিজিটাল মার্কেটের হওয়া যায়। তবে সুপার টপ লেভেলের ডিজিটাল মার্কেটার হওয়ার জন্য এক থেকে তিন বছরের মতো সময় লেগে যায়।
প্রশ্নঃ ডিজিটাল মার্কেটিং কি কি শেখানো হয়?
উত্তরঃ বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল মার্কেটিং যেমন, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (SMM), পেইড অ্যাডভার্টাইজিং (PPC), অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, ইমেল মার্কেটিং,ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং মার্কেটিং ইত্যাদি মার্কেটিং বিভিন্ন ধরনের কৌশল সমূহ।
প্রশ্নঃ ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে লাভ কি?
উত্তরঃ ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার মাধ্যমে একজন উদ্যোক্তা যেমন তার ব্যবসায়ের দ্রুত প্রচার ও প্রসার ঘটাতে পারেন তেমনি একজন ডিজিটাল মার্কেটের একটি প্রতিষ্ঠান কাঙ্খিত সার্ভিস টি প্রদান করে অর্থ উপার্জনের করে থাকেন।