মোবাইলে ভোটার আইডি চেক করার সহজ নিয়ম
জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী আইডেন্টিফিকেশন নম্বর, যা একটি ব্যক্তির ব্যক্তিগত ও আধিকারিক তথ্যগুলির সংক্ষিপ্ত সমন্বয় থাকে। এই নাম্বারটি সরকারের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান দ্বারা প্রদান করা হয়, যার মাধ্যমে একটি ব্যক্তির ব্যক্তিগত ও আধিকারিক তথ্যের মধ্যে সমন্বয় এবং সত্যতা নিশ্চিত করা হয়। আজকের ব্লগে জাতিয় জাতীয় পরিচয়পত্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য যেমন, মোবাইলে ভোটার আইডি চেক, মোবাইল নাম্বার দিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র বের করার নিয়ম, জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে করনীয়, মোবাইলে ভোটার আইডি চেক করার নিয়ম ইত্যাদি বিষয় গুলো সম্পর্কে আলোচনা করব।
কেন জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর প্রয়োজন?
জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বরের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো একটি ব্যক্তির পরিচয়ের সাথে তার আধিকারিক তথ্য সমন্বয় করা। এটি একটি সরকারী প্রমাণপত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাতে ব্যক্তির পরিচয়, ঠিকানা, জন্ম তারিখ, এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করা যায়। এটি ব্যক্তির ব্যক্তিগত এবং আধিকারিক তথ্যের মধ্যে সমন্বয় ও সত্যতা নিশ্চিত করে, যা বিভিন্ন সামাজিক এবং আর্থিক লেনদেনে ব্যবহার হতে পারে।
কোথায় এবং কীভাবে প্রাপ্ত করবেন?
কিছু সহজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আপনি জাতীয় পরিচয় পত্র প্রাপ্তি হতে পারেন। আপনার বয়স যদি চলতি বছরের ১লা জানুয়ারী বা তার পূর্বে ১৮ হয় তবে নির্দিষ্ট কিছু প্রমাণ পত্র যেমন, (জন্ম সনদ, নাগরিকত্বের সনদ, একাডেমিক সনদ, বাবা এবং মা এর এনআইডি কার্ডের কপি) ইত্যাদির ভিত্তিতে আপনি জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করতে আপনার নিজ উপজেলার নির্বাচন কমিশন অফিসে গিয়ে নির্দিষ্ট আবেদন ফরমে সঠিক তথ্য প্রদান করে জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আপনার আবেদনটি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলে, আপনি একটি সমন্বয় পত্র বা একটি প্রিন্টআউট পেয়ে থাকবেন, যা আপনার জাতীয় পরিচয় নম্বরটি সহ থাকবে।
ভোটার আইডি কার্ড কিভাবে বের করবো?
আপনার ভোটার আইডি কার্ড তৈরি সম্পন্ন হলে আপনি অনলাইনে এবং অফলাইনে আপনার ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। আপনি অনলাইনে নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইন কপি সংগ্রহ করতে পারবেন। অরিজিনাল কপিটি সংগ্রহ করতে নিজ উপজেলার নির্বাচন কমিশন অফিসে গিয়ে ফর্ম নাম্বার জমা দেওয়ার মাধ্যমে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের কপিটি সংগ্রহ করতে পারবেন।
নতুন ভোটার আইডি কার্ড চেক করার নিয়ম
নির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আপনি নতুন ভোটার আইডি কার্ড চেক করতে পারবেন। আপনি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে রেজিস্টার মেনুতে Claim Account অপশনে গিয়ে আপনার কাছে রক্ষিত ফর্ম নম্বর, আপনার জন্ম তারিখ ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে অনলাইনে সেবা পাওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করুন। পরবর্তীতে লগইন মেনু থেকে লগইন করার মাধ্যমে আপনার নতুন ভোটার আইডি কার্ডটি চেক করতে পারবেন।
NID নাম্বার দিয়ে আইডি কার্ড বের করার নিয়ম
আপনি খুব সহজেই এই আইডিটা নাম্বার দিয়ে আপনার আইডি কার্ড বের করতে পারবেন। এনআইডি নাম্বার দিয়ে আইডি কার্ড বের করার জন্য প্রথমে আপনি গুগল ডট কম এ চলে যান সেখানে গিয়ে সার্চ করুন এনআইডি বিডি। এখন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট টি তে যান। এবার আপনার এনআইডি নাম্বার সহ অন্যান্য তথ্য যেমন জন্ম তারিখ আপনার বর্তমান অস্থায়ী ঠিকানা ইত্যাদি মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন। রেজিস্টেশনটি সম্পন্ন হলে আপনি আপনার আইডি কার্ডটি ডাউনলোড করতে পারবেন।
পুরাতন আইডি কার্ড চেক করুন অনলাইনে
আপনি আপনার পুরাতন আইডি কার্ড টি অনলাইনে চেক করতে পারবেন। আপনি নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার মাধ্যমে আপনার আইডি কার্ড এর বিস্তারিত তথ্য দেখতে পাবেন। কিন্তু আপনি আপনার আইডি কার্ড এর সফট কপি বা পিডিএফ কপি ডাউনলোড করতে পারবেন না। পিডিএফ কপি ডাউনলোড করার জন্য আপনার প্রথমে উপজেলার নির্বাচন কমিশন অফিস এ গিয়ে আবেদন করতে হবে। এরপর আপনি অনলাইনে লগইন করে আপনার আইডি কার্ড টি চেক করতে এবং ডাউনলোড করতে পারবেন।
মোবাইলে ভোটার আইডি চেক করার নিয়ম
আপনি আপনার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আপনার ভোটার আইডি বা জাতীয় পরিচয়পত্র টি খুব সহজেই চেক করতে পারেন। এর জন্য আপনাকে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কিছু ধাপ অনুসরণ করতে হবে। নীচে আমি আপনাকে প্রক্রিয়ার ধাপগুলি বর্ণনা করছিঃ
মোবাইলে ভোটার আইডি চেক করতে কী কী লাগবে
মোবাইলে ভোটার আইডি চেক করতে যেই জিনিসগুলা আপনার প্রয়োজন হবে সেগুলো হলোঃ
- NID Wallet মোবাইল অ্যাপ
- আপনার NID নাম্বার
- আপনার জন্ম তারিখ
- বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা
- আপনার মোবাইল নাম্বার
- আপনার ফেস স্কান
কিভাবে মোবাইলে জাতীয় পরিচয়পত্র টি চেক করবেন
মোবাইলে জাতীয় পরিচয়পত্র চেক করার জন্য প্রথমে আপনি আপনার প্লেস্টোর থেকে NID Wallet অ্যাপ টি ডাউনলোড করুন। এখন গুগলে গিয়ে সার্চ করুন এনআইডি বিডি/ NIDBD। নির্দিষ্ট সার্চ রেজাল্ট থেকে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এর অফিসিয়াল ওয়েব সাইট টিতে প্রবেশ করুন। প্রথমে আপনি এখানে দুইটা অপশন দেখতে পাবেন যার প্রথমটি তে রেজিস্ট্রেশন করার জন্য রেজিস্ট্রেশন এর অপশন এবং দ্বিতীয় টিতে আপনি যদি নতুন নিবন্ধন এর জন্য আবেদনের অপশনটি পাবেন। এরপরে আপনি যদি আগে থেকে রেজিস্ট্রেশন করে থাকেন তাহলে লগইনের অপশন পাবেন। এখানে আগে থেকে একাউন্ট তৈরি করা না থাকলে রেজিস্ট্রেশন বাটনে ক্লিক করুন।

এখানে আপনার বিস্তারিত তথ্য প্রদান করুন যেমন জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার, জন্ম তারিখ, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা। এরপর আপনার মোবাইল নাম্বার টি প্রদান করুন। এবার আপনার মোবাইল এ যাচাই করণ কোড সম্বলিত একটি বার্তা আসবে। কোড টি সাবমিট করার মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন। এবার ওয়েবসাইটটি থেকে NID Wallet মোবাইল অ্যাপটি ওপেন করার জন্য লাল বাটন ওয়ালা এক লিংক পাবেন। সেখানে ক্লিক করলে NID Wallet মোবাইল অ্যাপ টি ওপেন হবে। এবার অ্যাপটি আপনার ফেস স্কান করবে। ফেস স্কান সম্পন্ন হলে আপনি আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র টি ডাউনলোড করার একটি অপশন পাবেন সেখানে ক্লিক করুন। এখন আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র টি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড হবে।

মোবাইল নাম্বার দিয়ে ভোটার আইডি কার্ড বের করা
আপনি আপনার মোবাইল নাম্বার দিয়ে খুব সহজেই এনআইডি কার্ড বের করতে পারবেন। এর জন্য প্রথমে আপনাকে আপনার এনআইডি কার্ড নাম্বার বের করতে হবে। কিভাবে মোবাইল নাম্বার দিয়ে এনআইডি নাম্বার বের করবেন চলুন তা দেখে নেই।
প্রথমে আপনার মোবাইলের মেসেজ অপশন থেকে টাইপ করুন SC<space>F<space> নিবন্ধন স্লিপের ৮ সংখ্যার নাম্বার <space>D<space>৪ সংখ্যার জন্ম সাল ডাস (–)২ সংখার জন্ম তারিখ লিখে লিখে পাঠিয়ে দিন ১০৫ নাম্বারে।
উদাহরনঃ SC F 12345678 D 1995-14
এবার এটা সেন্ড করুন ১০৫ এই নাম্বার এ। এরপর ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আপনার নাম এবং আপনার ভোটার আইডি কার্ড নাম্বার সহ এর বিস্তারিত তথ্য পেয়ে যাবেন। এরপর আপনি আপনার এনআইডি নাম্বার দিয়ে অথবা আপনার নিবন্ধন স্লিপের আট সংখ্যার নাম্বার টি দিয়ে এই লিঙ্কে ক্লিক করে আপনি রেজিস্টেশন সম্পন্ন করতে পারবেন। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে আপনি আপনার প্রফাইল এর ডাউনলোড সেকশন থেকে আপনার ভোটার আইডি কার্ড টি ডাউনলোড করতে পারবেন।
জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে করনীয়
জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে আপনি অনলাইনে পুনরায় কার্ডটি রিইস্যু করতে পারবেন। কার্ডটি রিইস্যু করার জন্য প্রথমেই আপনাকে আপনার থানায় একটি জিডি করতে হবে। এবার অনলাইনে রিইস্যু করার জন্য আপনার যে ধরণের তথ্যগুলো সংগ্রহ করতে হবে তা হলঃ
- পুনর্মুদ্রণ কারণ
- জিডি নম্বর
- থানা
- পুলিশ অফিসারের নাম
- পুলিশ অফিসারের পদবী
- জিডির তারিখ
উক্ত তথ্যগুলো সংগ্রহ করে, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এর অফিসিয়াল সাইটে লগইন করে রিইস্যু সেকশন থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র কার্ড টি রিইস্যু করার জন্য আবেদন করতে পারবেন। রিইস্যু করার জন্য উপরোক্ত তথ্য গুলো সঠিক ভাবে পূরণ করতে হবে আবেদন করতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র টি রিইস্যু করার জন্য আপনাকে নির্দিষ্ট হারে ফি প্রদান করতে হবে। এই লিঙ্কে এর মাধ্যমে আপনি আপনার পরিচয় পত্রের রিইস্যুর ফি- সম্পর্কে জানতে পারবেন।
শেষ কথাঃ উপরোক্ত আলোচনায় আমরা জাতীয় পরিচয়পত্র এর বিভিন্ন তথ্য সম্পর্কে জেনেছি। অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র এর যেকোনো ধরনের কার্য সম্পাদনের জন্য শুধুমাত্র বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল সাইট ব্যবহার করুন। অন্য কোন লিঙ্ক বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারিত হবেন না। আপনার যদি জাতীয় পরিচয়পত্র সম্পর্কিত কোন ধরনের প্রশ্ন থাকে আমাদের নিচের কমেন্ট সেকশনে জানান। পরবর্তী ব্লগ পড়ার আমন্ত্রণ রইল।
প্রশ্ন-উত্তর FAQ
প্রশ্নঃ মোবাইলে ভোটার আইডি চেক এর উপায় কি?
উত্তরঃ আপনি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল অ্যাপ ব্যাবহার করে ভোটার আইডি চেক ও বিস্তারিত তথ্য সম্পর্কে জানতে পারবেন।
প্রশ্নঃ মোবাইল নাম্বার দিয়ে ভোটার আইডি কার্ড বের করার নিয়ম কি?
উত্তরঃ আপনি আপনার মোবাইল নাম্বার দিয়ে এসএমএস এর মাধ্যমে অথবা অফিসিয়াল ওয়েব সাইটে লগইন এর মাধ্যমে ভোটার আইডি কার্ড এর বিস্তারিত জানতে পারবেন।
প্রশ্নঃ কার্ডের তথ্য কিভাবে সংশোধন করা যায়?
উত্তরঃ অনলাইন/এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং/উপজেলা/থানা/জেলা নির্বাচন অফিসে ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হবে। সংশোধনের পক্ষে পর্যাপ্ত উপযুক্ত দলিলাদি আবেদনের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।
প্রশ্নঃ আইডি কার্ড হারিয়ে গিয়েছে। কিভাবে নতুন কার্ড পেতে পারি?
উত্তরঃ অনলাইনে পুনরায় মুদ্রণের (রিইস্যু) জন্য আবেদন করুন। আবেদন অনুমোদিত হওয়ার পর আপনার মোবাইলে এসএমএস পাঠানো হবে। এরপর অনলাইন থেকে আপনার এনআইডি কার্ড এর কপি ডাউনলোড করে নিন।
প্রশ্নঃ আমি যথা সময়ে ভোটার হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করতে পারিনি। এখন কি করা যাবে?
উত্তরঃ আপনি যে কোন সময়ে রেজিস্ট্রেশনের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।